নকল বা বদলানো IMEI চেনার উপায়: ফোন কেনার আগে যে ৭টি লক্ষণ দেখবেন
চোরেরা চোরাই ফোন সহজে বিক্রি করতে কখনো কখনো সফটওয়্যার দিয়ে ফোনের IMEI বদলে ফেলে, বা অন্য কোনো ফোনের IMEI বসিয়ে দেয় — একে বলে ক্লোন। আবার কিছু নিম্নমানের নকল ফোন বাজারে আসে একই IMEI নিয়ে হাজার হাজার পিস। এমন ফোন কিনলে নেটওয়ার্কে সমস্যা, NEIR-এ আটকে যাওয়া, এমনকি আইনি ঝামেলাও হতে পারে। IMEI বদলানো বেআইনি কাজ, তাই কেনার আগেই এই লক্ষণগুলো দেখে নিন।
লক্ষণ ১: তিন জায়গার IMEI মেলে না
ফোনের ডায়ালারে *#06# লিখে IMEI দেখুন, তারপর Settings > About phone-এ IMEI দেখুন, এবং বক্স বা রসিদের IMEI মিলিয়ে নিন। ফোনের ভেতরের দুই জায়গা এক কিন্তু বক্স আলাদা হলে বুঝবেন বক্সটা অন্য ফোনের। আর *#06# ও Settings-এর IMEI যদি আলাদা হয়, সেটা বড় সতর্কসংকেত।
লক্ষণ ২: অস্বাভাবিক IMEI
নিচের যেকোনোটি দেখলে সাবধান হোন:
- সব শূন্য (000000000000000) বা 123456789012345-এর মতো সাজানো সংখ্যা
- একই সংখ্যা বারবার
- ১৫ সংখ্যার কম বা বেশি
- IMEI-এর জায়গায় "Unknown", "null" লেখা বা খালি
- ডুয়াল সিম ফোনে একটা IMEI নেই, অথবা দুটি IMEI হুবহু এক
লক্ষণ ৩: চেক ডিজিট মেলে না
IMEI-এর শেষ সংখ্যাটা আসলে একটা "চেক ডিজিট" — আগের ১৪টি সংখ্যা থেকে Luhn সূত্রে হিসাব করা হয়। হাতে-কলমে হিসাব করা যায়:
- প্রথম ১৪টি সংখ্যা নিন। বাম দিক থেকে ২য়, ৪র্থ, ৬ষ্ঠ — এভাবে জোড় অবস্থানের সংখ্যাগুলো দ্বিগুণ করুন। দ্বিগুণ করে দুই অঙ্কের সংখ্যা হলে অঙ্ক দুটি যোগ করুন (যেমন ১৮ হলে ১ + ৮ = ৯)।
- দ্বিগুণ করা ও না করা সব সংখ্যা যোগ করুন।
- যোগফলকে পরের ১০-এর গুণিতক বানাতে যত লাগে, সেটাই চেক ডিজিট।
উদাহরণ: 49015420323751 — জোড় অবস্থানের সংখ্যাগুলো 9, 1, 4, 0, 2, 7, 1। দ্বিগুণ করলে 18, 2, 8, 0, 4, 14, 2; দুই অঙ্কেরগুলোর অঙ্ক যোগ করলে 9, 2, 8, 0, 4, 5, 2 — মোট ৩০। বাকি সংখ্যাগুলো 4, 0, 5, 2, 3, 3, 5 — মোট ২২। সব মিলিয়ে ৫২। পরের ১০-এর গুণিতক ৬০, তাই চেক ডিজিট ৮। সঠিক IMEI: 490154203237518।
মনে রাখবেন, চেক ডিজিট মিললেই IMEI আসল নয় — সঠিক চেক ডিজিটসহ নম্বর যে কেউ বানাতে পারে। কিন্তু না মিললে নিশ্চিতভাবে নম্বরটা ভুল বা নকল।
লক্ষণ ৪: IMEI-এর মডেল আর হাতের ফোন আলাদা
IMEI-এর প্রথম ৮টি সংখ্যা (TAC) বলে দেয় ফোনটি কোন কোম্পানির কোন মডেল। আমাদের সাইটে IMEI সার্চ করলে অনেক ক্ষেত্রে মডেলের নামও দেখায়। IMEI বলছে এক কোম্পানির ফোন, অথচ হাতে আরেক কোম্পানির — তাহলে নিশ্চিতভাবেই IMEI বদলানো হয়েছে।
লক্ষণ ৫: NEIR-এ সমস্যা
KYD, একটা স্পেস, তারপর IMEI লিখে 16002 নম্বরে SMS পাঠান। ফোনটি নিবন্ধিত নয় দেখালে বা উত্তরে অন্য কোনো তথ্য এলে সাবধান হোন। NEIR নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন NEIR কী।
লক্ষণ ৬: শারীরিক চিহ্ন
- বক্সের স্টিকার নতুন করে ছাপানো মনে হয়, ঘষা বা অস্পষ্ট, বা লেখায় বানান ভুল
- ফোন খোলার দাগ, অথবা মাদারবোর্ড বদলানো হয়েছে — মাদারবোর্ড বদলালে IMEI-ও বদলে যায়। আসল সার্ভিস সেন্টারে মেরামত হলে সাধারণত কাগজ থাকে।
- বিক্রেতা "সফটওয়্যার করা" বা "IMEI ঠিক করা" ফোন বললে সতর্ক হোন
লক্ষণ ৭: নেটওয়ার্কে সমস্যা
সিম দিলে "No service" বা "Emergency calls only" দেখায়, অথবা কিছুক্ষণ পর পর নেটওয়ার্ক চলে যায় — এটা IMEI বা নিবন্ধনের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে, যদিও অন্য কারণেও হয়। তাই কেনার আগে নিজের সিম দিয়ে কল করে ও ইন্টারনেট চালিয়ে দেখুন।
সন্দেহ হলে কী করবেন
- ফোনটি কিনবেন না — যত ভালো দামই হোক।
- আগেই কিনে ফেললে এবং চোরাই বা IMEI বদলানো মনে হলে, ক্রয়ের রসিদ ও বিক্রেতার তথ্য নিয়ে নিকটস্থ থানায় জানান।
- নিজে কখনো কোনো দোকানে গিয়ে IMEI "ঠিক" করাতে যাবেন না — এটা বেআইনি।
দ্রুত চেকলিস্ট
- *#06#, Settings আর বক্সের IMEI একই
- ১৫ সংখ্যা, কোনো অস্বাভাবিক প্যাটার্ন নেই
- চেক ডিজিট ঠিক আছে
- IMEI-এর মডেল আর হাতের ফোন একই
- KYD SMS-এ সমস্যা নেই
- আমাদের সাইটে চুরির কোনো রিপোর্ট নেই
আরও পড়ুন: পুরনো ফোন কেনার আগে যে ১০টি জিনিস যাচাই করবেন।