পুরনো (সেকেন্ড হ্যান্ড) ফোন কেনার আগে যে ১০টি জিনিস অবশ্যই যাচাই করবেন
সেকেন্ড হ্যান্ড ফোন কিনে অনেকেই ভালো টাকা বাঁচান। কিন্তু অসাবধানে কিনলে চোরাই ফোন কিনে ফেলার ঝুঁকি থাকে। চোরাই ফোন কিনলে টাকা তো যায়ই, পুলিশি ঝামেলাও হতে পারে — ফোন উদ্ধার হলে সেটা আসল মালিকের কাছে ফেরত যায়, আর ক্রেতাকে জবাবদিহি করতে হয়। নিচের ১০টি বিষয় যাচাই করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
১. IMEI দিয়ে চুরির রিপোর্ট আছে কিনা দেখুন
ফোনের ডায়ালারে *#06# লিখুন, স্ক্রিনে IMEI দেখাবে। সেই নম্বর দিয়ে এখানে বিনামূল্যে চেক করুন। ফোনটি চুরি বা হারানো হিসেবে রিপোর্ট করা থাকলে কিনবেন না। মনে রাখবেন, রিপোর্ট না পাওয়া মানেই ফোন শতভাগ নিরাপদ নয় — সব মালিক রিপোর্ট করেন না। তাই নিচের অন্য বিষয়গুলোও দেখুন।
২. তিন জায়গার IMEI মিলিয়ে নিন
*#06# ডায়াল করে পাওয়া IMEI, ফোনের Settings-এর About phone অংশের IMEI, আর বক্সের স্টিকারের IMEI — তিনটি এক হতে হবে। না মিললে সাবধান: বক্সটা অন্য ফোনের হতে পারে, অথবা ফোনের IMEI বদলানো হতে পারে। বিস্তারিত পড়ুন নকল IMEI চেনার উপায়।
৩. NEIR-এ নিবন্ধন আছে কিনা দেখুন
মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন KYD, তারপর একটা স্পেস দিয়ে ১৫ সংখ্যার IMEI, এবং পাঠিয়ে দিন 16002 নম্বরে। BTRC-র NEIR থেকে উত্তর আসবে ফোনটি বৈধভাবে নিবন্ধিত কিনা। NEIR নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন NEIR কী।
৪. আগের মালিকের অ্যাকাউন্ট সরানো হয়েছে কিনা
Android ফোনে একটা সুরক্ষা আছে, যার নাম Factory Reset Protection। ফোন রিসেট করার পরও আগের মালিকের Google অ্যাকাউন্ট সরানো না থাকলে সেই অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ছাড়া ফোন চালু করা যায় না। iPhone-এ একই কাজ করে Activation Lock।
তাই বিক্রেতাকে আপনার সামনেই তার Google বা Apple অ্যাকাউন্ট থেকে বের হতে (sign out) এবং ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করতে বলুন। রিসেটের পর ফোন চালু করে দেখুন আগের কোনো অ্যাকাউন্ট চাইছে কিনা। বিক্রেতা যদি বলে "পাসওয়ার্ড মনে নেই" বা "পরে খুলে দেব", সেটা বড় সতর্কসংকেত।
৫. কাগজপত্র দেখুন
আসল বক্স, কেনার রসিদ বা ক্যাশ মেমো, আর ওয়ারেন্টি কার্ড আছে কিনা দেখুন। বক্সের IMEI ফোনের সাথে মিলিয়ে নিন। কাগজ না থাকলেই যে ফোন চোরাই তা নয়, তবে তখন অন্য বিষয়গুলো আরও ভালো করে যাচাই করুন।
৬. বিক্রেতার পরিচয় ও লিখিত রসিদ নিন
বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি এবং চালু মোবাইল নম্বর রাখুন। একটা সাধারণ বিক্রয় রসিদ লিখে নিন, যাতে থাকবে তারিখ, দাম, ফোনের মডেল, দুটি IMEI, আর ক্রেতা ও বিক্রেতার নাম ও স্বাক্ষর। পরে কোনো সমস্যা হলে এটাই আপনার প্রমাণ যে আপনি সরল বিশ্বাসে কিনেছেন।
৭. দাম অস্বাভাবিক কম হলে সাবধান
বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দাম, "এখনই নিলে নেন" ধরনের তাড়াহুড়ো, রাতের বেলা বা নির্জন জায়গায় দেখা করতে চাওয়া — এগুলো চোরাই ফোন বিক্রির সাধারণ লক্ষণ। অবিশ্বাস্য রকম ভালো ডিল প্রায়ই সত্যি হয় না।
৮. হার্ডওয়্যার ভালো করে পরীক্ষা করুন
- নিজের সিম ঢুকিয়ে কল দিন ও ইন্টারনেট চালিয়ে দেখুন — ডুয়াল সিম হলে দুই স্লটেই
- চার্জিং পোর্ট, স্পিকার ও মাইক্রোফোন
- সামনের ও পেছনের ক্যামেরা
- টাচ স্ক্রিনের সব জায়গা, আর ডিসপ্লেতে দাগ বা রঙের সমস্যা
- ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস আনলক
- Wi-Fi, ব্লুটুথ ও লোকেশন
- ব্যাটারির অবস্থা (iPhone-এ Settings > Battery > Battery Health)
- ফ্রেম বা স্ক্রু খোলার দাগ
৯. নিরাপদ জায়গায় লেনদেন করুন
দোকানে বা জনবহুল জায়গায়, দিনের বেলা দেখা করুন। সম্ভব হলে সাথে পরিচিত কাউকে নিন। অনলাইনে পরিচয় হওয়া অপরিচিত কাউকে আগাম টাকা পাঠাবেন না। ফোন হাতে পেয়ে সব যাচাই করার পরেই টাকা দিন।
১০. কেনার পর নিজের নামে নিবন্ধন করুন
কেনার পর রসিদ ও বক্স যত্ন করে রাখুন এবং ফোনের IMEI-এর স্ক্রিনশট নিজের ইমেইলে রাখুন। চাইলে Stolen Mobile Checker-এ অ্যাকাউন্ট খুলে আপনার ডিভাইস অংশে ফোনের মালিকানা যোগ করে রাখতে পারেন — ভবিষ্যতে ফোন হারালে দ্রুত রিপোর্ট করা যাবে।
এক নজরে চেকলিস্ট
- *#06# ডায়াল করে IMEI নিন ও চুরির রিপোর্ট চেক করুন
- তিন জায়গার IMEI মিলিয়ে নিন
- KYD SMS দিয়ে NEIR যাচাই করুন
- আগের অ্যাকাউন্ট সাইন আউট ও ফ্যাক্টরি রিসেট
- বক্স ও রসিদ দেখুন
- বিক্রেতার পরিচয় ও লিখিত রসিদ নিন
- দাম যাচাই করুন
- হার্ডওয়্যার পরীক্ষা করুন
- নিরাপদ জায়গায় লেনদেন
- কেনার পর নিবন্ধন